ইলমে দ্বীন থেকে মাহরুমির কারণ

আবু তাহের মিসবাহ

এই যামানায় ইলমে দ্বীন হাছিল করার নিয়তে মাদরাসায় আসা, আসতে পারা আল্লাহর পক্ষ হতে অনেক বড় মেহেরবানি, অনেক বড় দয়া ও ইহসান। আর তালিবে ইলমের পক্ষ হতে এটা অনেক বড় কোরবানি। এত বড় কোরবানির পর কোনো তালিবে ইলমের তো দ্বীনের ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার কথা না! যে যামানায় দ্বীনী ইলমের কোনো কদর নাই, না পরিবারে, না সমাজে তখন যদি অল্প বয়সের বাচ্চা ইলমের জন্য আগ্রহী হয় এবং ইলমের পথে চলতে চায়, আর মাদরাসার চাটাইয়ে বসে যায় তার তো মাহরূম হওয়ার প্রশ্নই আসে না। অথচ বাস্তবে আমরা কী দেখতে পাই? দেখতে পাই যে, ইলমের তলবে এসেও অনেকে ইলম থেকে মাহরূম হয়ে যাচ্ছে। কী এর কারণ? কেন সে মাহরূম হচ্ছে। কতই না আফসোসের বিষয় হবে যে, দুনিয়াও ছেড়ে দিলো, আবার ইলমের মহামূল্যবান সম্পদ থেকেও মাহরূম হলো! এর চেয়ে মর্মান্তিক বিষয় আর কী হতে পারে?!
যে যামানায় সামান্য মেহনতের অনেক আজর দেয়ার ওয়াদা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমার উম্মতের ফাসাদের যামানায় যে আমার সুন্নাহ যিন্দা করার মেহনত করবে, তার জন্য রয়েছে একশ শহীদের আজর। এমন খোশখবর যে যামানার জন্য সেই যামানায় মানুষ কেন ইলম থেকে মাহরূম হয় তা অবশ্যই চিন্তা করা দরকার। আমাদের পূর্ববর্তীগণ এর কারণগুলো ছাফ ছাফ বলে গিয়েছেন।
একদল তো ইলম থেকে মাহরূম হচ্ছে একারণে যে, জীবনে কখনো তারা ইলম তলবই করেনি। না মাদরাসায় এসেছে ইলম হাছিল করার জন্য, না কোনো আলিমের ছোহবত গ্রহণ করেছে মাসায়েল জেনে জেনে আমল করার জন্য। তারা তো ইলম থেকে এমনই মাহরূম যে, তথাকথিত উচ্চ শিক্ষিত মানুষ, পঞ্চাশ বছরের উপর বয়স। অথচ মাসাআলা জিজ্ঞাসা করে এমন যে, মাদরাসার ছোট তালিবে ইলমও অবাক হয়। অথচ সেটাই ঐ বুড়ো মানুষের কাছে বিরাট সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বেচারা জানে না, অযুর কয় ফরজ! কারণ যিন্দেগিতে সে একটি মাসআলাও শিখেনি।
কিন্তু সংখ্যায় খুব অল্প হলেও যাদেরকে আল্লাহ তাআলা মাদরাসায় আসার তাওফিক দিয়েছেন, এই ফিতনা ফাসাদের যামানায়ও তলবে ইলমের জন্য দয়াময় যাদের নির্বাচন করেছেন, যারা রীতিমত তলবে ইলম শুরু করেছে তারা কেন ইলম থেকে মাহরূম হচ্ছে? এর যাহেরি ও বাতেনি কারণগুলো অবশ্যই জানা দরকার এবং সেগুলো থেকে নিজেকে যথাসম্ভব বাঁচিয়ে রাখা দরকার।
কিছু কারণ তো এমন আছে যেগুলোর উপর তালিবে ইলমের নিয়ন্ত্রণ নেই। যেমন গিযা হালাল হওয়া। দ্বীনের ইলম হাছিল হওয়ার জন্য এটা একেবারে অপরিহার্য শর্ত। কোনো অভিভাবক যদি হারাম পথে উপার্জিত অর্থ তালিবুল ইলমের পিছনে ব্যয় করে, আর তালিবুল ইলম তা ভোগ করে এবং তা দ্বারা শরীরের রক্তমাংস তৈরি হয় তা হলে চিরতরে ইলমের দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রথাগত ইলম যদি এসেও যায় তা হলে এ আশঙ্কা অবশ্যই রয়েছে যে, ঐ ইলম তার জন্য এবং তার কাউমের জন্য ফিতনার কারণ হবে। সমাজে আমরা কোনো কোনো আলিমের যে কলঙ্কজনক অবস্থা দেখতে পাই, যাদের দ্বারা ইলম ও আহলে ইলমের শুধু বদনাম হয় তালাশ করলে দেখা যাবে, হয়ত তার শরীরে হালাল গিযা দাখেল হয়নি হারাম গিযা দাখিল হয়েছে। কিংবা রয়েছে মাহরূমির অন্য কোনো গুরুতর কারণ।
তো গিযা যদি হালাল না হয়, সারা জীবন মাদরাসায় পড়ে থাকার পরো সে ইলম থেকে মাহরূম হতে পারে। এজন্য খোঁজখবর নিয়ে জানতে হবে, অভিভাবকের উপার্জন হালাল কি না। তালিবে ইলম নিজেও তাহকীক করবে, যখন তার ঐ পরিমাণ বুঝ হয়ে যাবে। নাÑবালেগ অবস্থায় তো তার উপর কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কিন্তু যে বয়সে এবং যে স্তরে তালিবে ইলম শরিয়তের পক্ষ হতে মুকাল্লাফ সে বয়সে কিন্তু সে কোনো অজুহাতেই দায়মুক্ত হতে পারবে না। তাকে খোঁজ নিতে হবে যে, অভিভাবকের কামাই হালাল কি না। হালাল বলে নিশ্চিত হলেই সে তা ব্যবহার করতে পারে। হারাম হলে যেকোনো উপায়ে তাকে তা থেকে বেঁেচ থাকতে হবে। থাকতেই হবে। যখনই কোনো তালিবে ইলম এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হবে, তার প্রথম কর্তব্য হবে উস্তাযকে মাদরাসার যিম্মাদারকে এ বিষয়ে অবহিত করা এবং তাদের কাছ থেকে রাহনুমায়ি গ্রহণ করা। কিন্তু মাঝে মধ্যে দেখা যায় তালিবে ইলম একেবারেই নির্বিকার। আমরা খবর নিয়ে যখন জানতে পারি, আর জিজ্ঞাসা করি চুপ করে থাকে। এ বিষয়ে আমাদের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং হচ্ছে যে, আাল্লাহ পানাহ। জানি না, অন্যান্য মাদরাসায় কী অবস্থা এবং যিম্মাদারগণ এ বিষয়ে কতটা বা-খবর, কতটা পেরেশান।
এক তালিবে ইলম চতুর্থবর্ষে পড়ে। হঠাৎ জানা গেলো, তার বাবা কিস্তির টাকা থেকে ছেলের খরচ দিয়ে যাচ্ছে, এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না বলে ছেলেকে নিয়ে যাবে। কোনো কাজে লাগিয়ে দেবে সংসারের কিছুটা হাল ধরার জন্য।
তালিবে ইলম সবকিছুর জেনেও নির্বিকার! আমাদের তো দিশেহারা অবস্থা। এত দিন তা হলে এর মাধ্যমে হারামের টাকা আমাদের মাদরাসায়ও ঢুকেছে! পিছনের অর্থ ফেরত দিয়ে সামনের জন্য তাকে আমরা মাদরাসার খাছ মেহমানরূপে গ্রহণ করেছি। অভিভাবককে সুদের অভিশাপ সম্পর্কে হুঁশিয়ার করেছি। তিনি বলেন, হুযূর, তা হলে এখন আমার বাঁচার উপায় কী? আমি তো এখন কিস্তি শোধ করা নিয়ে দিশেহারা। আমরা তাকে কর্যে হাসানা দিয়েছি, মাসে মাসে পরিশোধ করার ভিত্তিতে। মাদরাসার উছিলায় আল্লাহ তাআলা তাকে অভিশাপ থেকে উদ্ধার করেছেন।
মেছাল হিসাবে শুধু একটা ঘটনা উল্লেখ করলাম। এরূপ ঘটনা এক আমাদের মাদরাসায়ই অসংখ্য। ব্যাংক থেকে সুদের উপর করয নিয়ে এখন বিপদ। জেলে যাওয়ার উপক্রম। ব্যাংকের তাগাদায়, হুমকি ধমকিতে দিশেহারা অবস্থা। আখেরাতের আযাব তো আছেই । দুনিয়াতেই যেন আযাব শুরু হয়ে যায়। জানি না এটা শুধু আমাদের মাদরাসার অবস্থা, না সবখানেই একই রকম ভয়াবহ পরিস্থিতি! আমরা আহলে মাদারিস নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছি কীভাবে? তো নিজের অভিভাবকের হারাম গিযা থেকে বেঁচে থাকার একটা ছূরত এই হতে পারে যে, কোনরকম জানটা বাঁচে এই পরিমাণ গ্রহণ করা, এর বেশি গ্রহণ না করা। তারা দিতে চাইলেও তালিবের কর্তব্য গ্রহণ না করা। আরেকটা ছূরতেহাল এই দেখা যায় যে, অভিভাবকের কামাই তো হালাল। কিন্তুু কাছের আত্মীয়স্বজনদের অবস্থা অন্যরকম। এ ক্ষেত্রে তালিবে ইলমকে পূর্ণ সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে। কিন্তুু আফসোস, মাদরাসার তালিবে ইলম, হেদায়া পড়ে, জালালাইন পড়ে, এমনকি দেখতে পেয়েছি, মেশকাত পড়ে, বুখারি পড়ে, অথচ হালাল-হারামে কোনো সতর্কতা নেই! তার ভাই বা
কোনো নিকটাত্মীয় হারাম উপার্জন করে, ব্যাংকে চাকুরি করে, সুদের লেনদেন করে। আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি। দেশের আইন তো এ ক্ষেত্রে সক্রিয় হয়ে ওঠে, তদন্ত শুরু করে যে, তোমার জ্ঞাত আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সঙ্গতি নেই কেন? আয় ব্যয়ের হিসাব দাখিল করো। কিন্তুু তালিবে ইলম নির্বিকার। সবকিছু জেনেও সেখানে খায়দায়, বেড়ায় খেলায়। অথচ শরিয়তের কঠিন বিধান ও কড়া হুকুম এই যে, যারা হারাম উপার্জন করে বলে জানা আছে, তালিবুল ইলম তাদের বাড়িতে বেড়াতে খেলাতে পারে না। তাদের এখানে কিছু খেতে পারে না। নচেৎ ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার পূর্ণ আশঙ্কা রয়েছে। তবে, ‘আপনার উপার্জন হারাম। এই জন্য আপনারটা খাবো না’, এমন করে বলার প্রয়োজন নাই। এটা হিকমতেরও খেলাফ। যা কিছু করার করতে হবে হিকমত ও কৌশলের সঙ্গে। তো প্রথম কাজ হবে নিজে হারাম থেকে বেঁচে থাকা। যেখনে হারাম গিযার সামান্য গন্ধ আছে, তালিবে ইলমের কর্তব্য হলো সেখান থেকে দূরে থাকা। তবে এমনভাবে যাতে ফেতনা না হয়। তাদের বিয়ে শাদিতে, উৎসবে অনুষ্ঠানে না যাওয়া, তাদের হাদিয়া-তোহফার বিষয়ে সাবধান থাকা।
(ফিরিয়ে দিলে যদি ফেতনা হয় রেখে দেবে, কিন্তু নিজেরা ব্যবহার করবে না, অন্তত নিজে ব্যবহার করবে না। গরীবকে দিয়ে দেবে।)
বাবার উপার্জন হারাম হলে কোনো রকম জানটা বাঁচে- এ পরিমাণ গ্রহণ করবে, আর ইস্তিগফার করবে এবং আল্লাহর কাছে দু’আ করবে যে, হে আল্লাহ, আমার জন্য হালাল গিযার ব্যবস্থা করে দাও। আমার ইলমের পথের এই বাধা (এবং সমস্ত বাধা) দূর করে দাও। আর যা উপায়হীন অবস্থায় গ্রহণ করছি, আমার জন্য তা হালাল করে দাও।
বাবার জন্য দু‘আ করবে, হে আল্লাহ, তুমি তাকে হারাম উপার্জন থেকে উদ্ধার করো এবং হালাল উপার্জনের তাওফিক দান করো। এভাবে ভিতরে যদি তড়প ও অস্থিরতা আসে তা হলে আল্লাহ তাআলা অন্তত তার জন্য ঐ গিযাটা হালাল করে দেবেন। আসল কথা হলো, হালাল-হারামের বিষয়ে দিলের তড়প ও অস্থিরতা। তারপর মা-বাবাকে আদবের সঙ্গে বলবে, (উস্তাযকে দিয়ে বলাবে) যে, সন্তানের ইলমের জন্য পিতা-মাতার হালাল-হারাম বেছে চলা খুব জরুরি। যে ঘরের উপার্জন হালাল নয় সে ঘরে ইলম আসে না, আসতে চায় না। সন্তানকে মাদরাসায় দিলেও তার যিন্দেগি কামিয়াব হয় না: না দুনিয়াতে, না আখেরাতে।
মোটকথা, বহু ছেলে এভাবে বরবাদ হচ্ছে। কেউ কারণ খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে না। আমার প্রবল ধারণা, হারাম গিযা এর বড় একটা কারণ। থানবি রহ. বলেছেন, মাদরাসায় কোনো তালিবে ইলমকে দাখেল করার সময় খবর নাও যে, অভিভাবকের উপার্জন হালাল কি না। আমারাতো খবর নেই না, এমনকি এ প্রশ্নটাও করি না যে, আপনি কী চাকুরি করেন? আপনার আয় কত? আপনার অন্যান্য উপার্জন কী?
আমি একটা দাখেলা ফরম তৈরি করেছিলাম, যাতে প্রয়োজনীয় অনেক প্রশ্ন ছিলো, যা দ্বারা তালিবে ইলমের পরিবার ও পারিপার্শ্ব সম্পর্কে একটা পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারিনি। ….তাদের সুবিজ্ঞ পরামর্শ হলো, এতে ফেতনা হবে। ফেতনা শব্দটাই দেখি এখন এক যিন্দা ফেতনা। একা একা তো আর করা যায় না, পিছিয়ে আসতেই হলো। কিন্তু লাভ কী হলো?! যারা মাহরূম হওয়ার তারা তো মাহরূম হচ্ছেই। অন্তত একটু সচেতনতা তো তৈরি হতো!
অনেক ছেলেকে দেখি, সুন্দর লেখা-পড়া করছে। হঠাৎ বলে বসে, পড়া থেকে মন উঠে গেছে। বুঝিয়ে শুনিয়ে রাখতে চাইলে না বলেই চলে যায়। মন উঠে যাওয়ার, অন্তত আমার জানামতে মাদরাসাতুল মাদীনায় কোনো কারণ নেই। কিন্তু তার এক কথা ভালো লাগছে না। অস্থির লাগছে। আমরা এর কারণ তলিয়ে দেখি না। আমার তো প্রবল ধারণা, সমস্যা অন্যখানে, ঐ হারাম গিযা, বা অন্য কোনো কারণ। আগেও বলেছি আবার বলছি, এই হারাম গিযা থেকে তালিবে ইলমের বেঁেচ থাকার সহজ উপায় হলো, একেবারে যতটুকু না নিলেই নয়, ততটুকু নেবে। এর বেশি নেবে না। দিতে চাইলেও ফিরিয়ে দেবে যে আমার প্রয়োজন নেই।
কিন্তু ফিরিয়ে দেয়া তো দূরের কথা, হারামের কামাই জেনেও জোর করে আরো বেশি আদায়ের চেষ্টা করে। অথচ এই অতিরিক্ত খরচটা তার ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার কারণ হতে পারে। যথেষ্ট আশঙ্কা আছে।
খুব নাযুক ও স্পর্শকাতর বিষয়, সন্দেহ নেই। কিন্তু না বলেও তো উপায় নেই। অভিভাবকদের মধ্যে যাদের সঙ্গে কথা হয় তাদেরকে বলা দরকার যে, আপনার উপাজর্ন হালাল করার চেষ্টা করুন। যদি তা সম্ভব না হয় তা হলে আল্লাহর ওয়াস্তে ছেলেকে মাদরাসায় দেয়ার চিন্তা পরিত্যাগ করুন। অন্তত দুনিয়ার শিক্ষাটা তো সে অর্জন করুক। মাদরাসায় দিলে প্রবল আশঙ্কা আছে যে, সে মাদরাসা থেকে চলে যাবে, কিংবা লেখা-পড়া করবে না। দুনিয়াও যাবে, আখেরাতও যাবে। তো অন্তত তার দুনিয়ার জীবনটা আর দশটা সমবয়সীর মতো সুন্দর হোক। কাবাঘর নির্মাণের সময় কাফির মুশরিকরা পর্যন্ত হালাল উপার্জন দ্বারা আল্লাহর ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেছে। তাদের ভাবনা ছিলো এই যে, আল্লাহর ঘরে হারাম মাল লাগালে আল্লাহর কাছে রেহাই পবো না। হালাল উপার্জন দ্বারা নির্মাণের চেষ্টা করেছিলো বলেই একটি অংশ তারা নির্মাণ করতে পারেনি। ছোট করে নির্মাণ করতে হয়েছে। ছেড়ে দেয়া অংশটিকে হাতীম বলে। এই ছিলো মক্কার কাফির-মুশরিকদের চিন্তাচেতনা। এখন একবার ভেবে দেখুন, কেমন মাল দ্বারা মসজিদ তৈরি হয়, মাদরাসা তৈরি হয়! কেমন মাল থেকে তালিবে ইলমের গিযা আসে! তারপরো আমরা আশা করে বসে আছি, আমাদের মসজিদ আবাদ হবে। আমাদের ইলমি বাগানে বসন্ত বিরাজ করবে!
আমার তো মনে হয়, মাদরসার কথা আলাদা, এমনকি আমাদের দুনিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে যা কিছু অবক্ষয় তার পিছনেও হারাম মালের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। দুনিয়ার লোকেরা শুনলে হাসবে। টাকা তো টাকা, টাকার গায়ে কি লেখা আছে হালাল, বা হারাম। তা ঠিক তার উপর এখন হারামের গায়েও হালালের লেবেল এঁটে দেয়া হয়।
তো বলছিলাম, এখন মুসলমানদের দেশে সরকারী খরচে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি তৈরি হচ্ছে। সরকারী কোষাগারে হালাল হারামের কোনো তমিজ নেই। জঘন্যসব হারাম রাজস্ব সরকারী তহবিলে জমা হচ্ছে। সুতরাং ঐ সকল স্থান থেকে যারা লেখাপড়া করে বের হবে তারা কিছু শব্দ ও বাক্য হয়ত শিখবে, হয়ত কর্মজীবী লোকও তৈরি হবে, কিন্তু আদর্শ মানুষ, নীতিবান মানুষ, দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ মানুষ তৈরি হবে না, হতে পারে না। অমুসলিম দেশে হতে পারে, কিন্তু মুসলমানের সন্তান হারাম মালের লেখাপড়ায় মানুষ হতে পারে না, ধর্মপ্রাণ হওয়া তো ‘দূর কি বাত হায়।’ এ জন্য মাদারিসে কাউমিয়া সবসময় সরকারী সাহায্য থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। যত দিন রাখতে পারবে ততো দিনই কল্যাণ। বিপদের আভাস তো অনেক দিন থেকেই দেখা যাচ্ছে। আল্লাহ হিফাযত করুন। অবক্ষয় ও পচন কিন্তু একদিনে হয় না, ধীরে ধীরে হয়। এত ধীরে যে, টেরও পাওয়া যায় না। এই যে, মাদরাসামহলে আমাদের ব্যক্তিজীবনে হালাল-হারামের ভাবনা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এটা কিন্তু সেই ভয়াবহ বিপর্যয়েরই পূর্বাভাস। এখনই আমাদের সাবধান হওয়ার সময়। বরং সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। তালিবানে ইলমের গিযা হালাল কি না, এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খুঁজ নেওয়া উচিত।
সুদের উপর কিস্তি নেয়া এখন যেন অনিবার্য প্রয়োজন হয়ে গেছে। অন্তত আমার মাদরাসার ছাত্র-অভিবাবকদের মানসিকতা তেমনই দেখতে পাচ্ছি। আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে এবং তা থেকে উদ্ধার পাওয়ার কার্যকর কোনো ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে। অন্তত প্রতিটি মাদরাসার তো দায়িত্ব তারা যে সকল তালিবানে ইলমের যিম্মাদারি গ্রহণ করেছে দাখেলার মাধ্যমে, তাদেরকে সুদের এবং হারাম মালের অভিশাপ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করা। আল্লাহর কাছে কিছু একটা জওয়াব তো দিতে হবে। কিন্তু কী হবে আমাদের জওয়াব?!
তদ্রুপ ব্যক্তিগতভাবে যাদের উপার্জন হারাম তাদের ঘরেও ইলম আসার কথা নয়। হাঁ তালিবে ইলম যদি নিজেকে ঐ হারাম উপার্জন থেকে বাচিঁয়ে রাখে, রাখার চেষ্টা করে তা হলে আল্লাহ মেহেরবান। বেঁচে থাকার সহজ উপায় সম্পর্কে একটু আগেই বলেছি। আগে দরকার তালিবে ইলমের মধ্যে এই চেতনা সৃষ্টি হওয়া যে, আমার গিযা হালাল হতে হবে, যেকোনো উপায়ে। তারপর দরকার তা থেকে বেঁচে থাকার প্রাণান্ত চেষ্টা। তা হলে আল্লাহ অবশ্যই রাস্তা খুলে দেবেন এবং কোনো না কোনো উপায় বের করে দেবেন।
এত দুর্ভাগ্যের মধ্যেও একটি সৌভাগ্যের কথা বলতে চাই। এখনই মনে পড়লো ছেলেটির কথা। বেশ সচ্ছল বাবার সন্তান। কিন্তু মায়ের ধারণা, স্বামীর উপার্জনের ধরন সন্তোষজনক নয়। মা বললেন, হুযূর, আমার ছেলেকে আমি দ্বীনের ইলম শিক্ষা দিতে চাই। ছেলের বাবাও চায়। কিন্তু তার ‘রোজগার ঠিক না।’ আমি চাই মাদরাসা থেকে প্রতিমাসের খরচের টাকাটা আমাকে করয দেয়া হোক। আশা করছি, আমার একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তখন আমি শোধ করে দেবো।
জীবনে প্রশান্তির অল্প যে ক’টি মুহূর্ত পেয়েছি তার মধ্যে এটি একটি। সেই ছেলে খুব মেধাবী ছিলো না। সাধারণ আলিমই হয়েছে। সাধারণ উপার্জনই করেছে। কিন্তু সে আমার মাদরাসার গর্ব। তার মাও বলতো, এ সন্তান আমার গর্ব। সেই বাবা এখন দুনিয়ায় নেই, মাও নেই। ছেলেটাও অনেক দিন হলো আসে না। শুনেছি, কাতার গিয়েছে। যেখানেই থাকে শান্তিতে যেন থাকে। তার মায়ের কবর যেন শিশিরসিক্ত থাকে। তার বাবাকে যেন আল্লাহ মাফ করে দেন, আমীন।
ইলম থেকে মাহরূমির দ্বিতীয় কারণ বাড়িতে আল্লাহর নফরমানি হওয়া। যে বাড়িতে আল্লাহ তাআলার নাফরমানি হয়, পর্দায় নাচগান চলতে থাকে, পর্দা-পুশিদা নেই। মা পর্দা করে না, বোন পর্দা করে না, বাবা পর্দা করে না সে বাড়িতে ইলম দাখেল হওয়ার স্বাভাবিক কোনো পথ নেই। আল্লাহর কুদরতের মু‘আমালা অবশ্য আলাদা।
এগুলোর উপর যদিও তালিবে ইলমের নিয়ন্ত্রণ নেই, তবু এগুলো তার ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার অনেক বড় কারণ। এটা থেকে সে বাঁচবে কীভাবে? সে নিজে পর্দা করবে। যে কামরায় কম্পিউটার চলছে সেখান থেকে সে উঠে যাবে। এ বিষয়টা নিয়ে যে সে পেরেশান, ভদ্রভাবে সংযতভাবে এবং কোমলভাবে সবাইকে বুঝিয়ে দেবে। ইনশাআল্লাহ সে নিরাপদ থাকবে এবং মাহরূমি থেকে বেঁচে যাবে।
একজন মায়ের কথা মনে পড়লো। ফোন করে কান্নাকাটি করলেন। এত আশা করে ছেলেকে মাদরাসায় দিলাম। দ্বীন শিখবে, আমরা কবরে শান্তি পাবো। এখন তো ছেলে বলে মাদরাসায় পড়বে না!….. এটা আমার দুর্বলতা যে, এসময় পর্দার কথাটাই আমার মনে এসে যায়। জিজ্ঞাসা করলাম। খুব আস্থার সঙ্গে বললেন, তিনি পর্দা করেন, বোরকা ছাড়া বের হন না। প্রশ্ন করলাম, দেবরের সঙ্গে? ভাসুরের সঙ্গে? …? …?
শরমে পড়ে গেলেন। আমি বললাম, আপনার লজ্জার কিছু নেই। এটা তো আমাদের সমাজব্যবস্থারই বাস্তবতা। আপনাকে সেই পরিবেশই দেয়া হয়নি যাতে আপনি পূর্ণ পর্দা রক্ষা করতে পারেন। কিন্তু সন্তানের চেয়ে মূল্যবান আপনার কাছে কী আছে? সন্তানের কল্যাণের জন্য তো যে কোনো প্রতিকূলতার মোকাবেলা আপনাকে করতেই হবে।…..
কিস্সা মুখতাছার। মায়ের মধ্যে পরিবর্তন এলো। ছেলের মধ্যেও আল্লাহর রহমতে পরিবর্তন এলো। অনেক ঝড়ঝাপটার মোকাবেলা মাকে করতে হয়েছে তার স্বামীর সংসারে। কিন্তু তিনি অবিচল ছিলেন। ঔষধটা তার মধ্যে ভালো কাজ করেছিলো, সন্তানের চেয়ে মূল্যবান আপনার কাছে কী আছে?
আমাদের মাদরাসার একজন তালিবে ইলমকে জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার ভাবী আছে? আছে। ভাবীর সাথে দেখা দাও? জ্বী। ভাবীর সঙ্গে পর্দা করা যে জরুরি, জানো? জ্বি না। তোমার আব্বা কোথায়? হজ্বে গিয়েছেন। হজ্ব থেকে ফেরার পর দেখা করতে বলো।
তিনি এলেন। প্রসঙ্গটা উত্থাপন করলাম। তিনি অদ্ভুত এক ভঙ্গি করে বললেন, আর কইয়েন না হুযূর, একছাদের নীচে থাকলে যা অয় আর কি!
মোটামুটি যদ্দুর সম্ভব হলো বুঝিয়ে বললাম, ঘরে যদি পর্দা রক্ষা করতে না পারেন তা হলে কিন্তু আপনার ছেলের ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার আশঙ্কা আছে।
তিনি গুরুত্ব দিলেন না। ছেলেটাও না। এরপর বছর ঘুরলো না, ছেলেটি ঘুরে গেলো। লেখাপড়া থেকে, মাদরাসা থেকে, মাদরাসার শিক্ষা থেকে তার মন উঠে গেলো। এখনো মনে পড়ে তার মন্তব্যটা, মনে পড়ে আর কষ্ট হয়- ‘ফকিরি পরা পরুম না।’ আমাকে বলেনি, তবে আমার কানে এসেছে। বংশালের দিকে বাড়ি ছেলেটার। জানতে বড় ইচ্ছা করে, ফকিরি পড়া না পড়ে সে কতটা ধনী হয়েছে?
একটা নমুনা আমাদের আশরাফাবাদেই আছে, ছেলেটাকে বাঁচানোর জন্য আমি সাধ্যর বাইরেও চেষ্টা করেছি। তাকে বলেছিলাম, আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে তোমার ভবিষ্যতের যিম্মা আমি নিলাম। তার এক কথা ফকিরি পড়া পড়বো নাা। ভবিষ্যতে আমার ভিক্ষা করার ইচ্ছা নাই। তৃতীয়বর্ষে ওঠার পর ছেলের মুখে এই কথা! চলে যাওয়ার পরো দু’বছর পর্যন্ত চেষ্টা করেছি, ‘এখনো তুমি ফিরে এসো।’ কারণ একটাই; আমার উপর তার ছোট্ট একটি ইহসান ছিলো। ছেলেটি আর ফিরলো না। ভর্তি হলো আমাদের চোখের উপর কাছের স্কুলে। ছেলেটি এখনো আছে আমাদের চোখের সামনে, ফকির না হলেও কাছাকাছি। তারও বাড়িতে পর্দা ছিলো না।
আমার ছেলেকে যেদিন তার মা পর্দার কথা বললো, দেখি মনটা খারাপ, মেজাজটা চড়া। কিছু বলে না, সবকিছুতে অসন্তোষ ধরা পড়ে। তো আমি বললাম, বাবা পর্দার হুকুম শুধু তোমার উপর নয়। আমার উপরো। দেখো, তোমার খালাদের সামনে কী স্বচ্ছন্দে তুমি চলে যাচ্ছো। আমি যেতে পারি না। তুমি আমাকে থামিয়ে দিতে পারো যে, আব্বু ওদিকে যেয়ো না, খালারা আছেন। এদিকে আমার ভাগিনি, ভাতিজিরা আমার কাছে আসতে পারে, কিন্তু তোমার জন্য নিষেধ। তো তুমি এটা কেন মনে করছো যে, পর্দার হুকুম শুধু তোমার জন্য? বাধাটা শুধু তোমার ক্ষেত্রেই? একখানে তুমি অবাধ, আমার জন্য বাধা, আরেকখানে আমি অবাধ, তোমার জন্য বাধা। এটা আল্লাহর নেযাম। আমাকেও মানতে হবে, তুমিও মানলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে।
এরপর দেখি ছেলের আর অসন্তোষ নেই। তাই বলছিলাম আব্বা-আম্মা ছিলেন খুব কড়া। আমিও অনমনীয়, তবে কোমল এবং যুক্তিমনস্ক।
প্রসঙ্গ থেকে মনে হয় বেশ দূরে চলে এসেছি। তো বলছিলাম, এই যে ছেলেটা ইলম থেকে মাহরূম হলো, আমার কিন্তু প্রবল ধারণা এর বড় কারণ হলো পর্দার শিথিলতা। এজন্য তালিবে ইলমের বাবা-মায়ের কর্তব্য হলো শরিয়তের বিধান যে পর্দা সেই পর্দা পালন করা। নামকওয়াস্তে যে পর্দা সেটা যেমন নয়, বাড়াবাড়ি স্তরের যে পর্দা সেটাও নয়।
তালিবে ইলম চেষ্টা করেও যদি বাড়িতে পর্দা আনতে না পারে তা হলে অন্তত নিজের পর্দাটা রক্ষা করার চেষ্টা করবে। যাদের সঙ্গে পর্দা করা জরুরী তাদের সঙ্গে পর্দা করবে। তা হলে ইনশাআল্লাহ ইলম থেকে সে মাহরূম হবে না। বাড়িতে নাচগান হয়, আরো সব অনাচার হয়, গায়ে হলুদ হয়, জন্মদিন পালন করা হয়। নববর্ষ উদযাপন করা হয়, কিন্তু সে এগুলো থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে। ইসলামবিরোধী বলে এগুলোর প্রতি অন্তরে ঘৃণা পোষণ করে তা হলে আল্লাহ তাআলা তাকে মাফ করে দেবেন।
কিন্তু এখন তো তালিবে ইলম-আল্লাহ মাফ করুন-মাদরাসার ভিতরেই নাচগান দেখে। নাচগানের যন্ত্র তো সে নিজের কাছেই লুকিয়ে রাখে। ইলম থেকে মাহরূম হওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে?!
যার মা-বাবা বাড়িতে নাচগান দেখায় লিপ্ত, রুসূমাতে লিপ্ত তার ছেলের ইলম হাছিল হওয়া কীভাবে সম্ভব। তার তো মাহরূম হওয়ারই কথা। আল্লাহ যদি তার দ্বীনের ভাবমর্যাদা রক্ষা করতে চান তা হলে এমন ছেলেকে তিনি ইলম থেকে দূরেই রাখবেন। কোনো না কোনোভাবে ইলম থেকে সে দূরে সরে যাবেই, আজ বা আগামীকাল। আমার এই দুর্ভাগা চোখের সামনে নযির এত প্রচুর যে বিষয়টি আমার প্রায় ঈমানের পর্যায়ে চলে এসেছে।
এখন বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ঐগুলোকে অন্তর থেকে ঘৃণা করা এবং তা থেকে নিজেকে সযতেœ গুটিয়ে রাখা। তা হলে আল্লাহ তাআলা মেহেরবানি করে তাকে ইলম দান করতে পারেন।
মোটকথা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তালিবে ইলম যদি হারাম গিযা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে, পর্দার উপর পুরা মযবূতির সঙ্গে আমল করে এবং যাবতীয় অনাচার থেকে দূরে থাকে তা হলে ইনশাআল্লাহ তাকে আল্লাহ তাআলা ইলম দান করবেন।
এ ধরনের আরো কিছু কারণ আছে, যেগুলোর উপর তালিবে ইলমের নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু সেগুলো থেকে বাঁচার উপায় আল্লাহ তাআলা রেখেছেন। যেমন ইলম ও আহলে ইলমের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা, তাদের সঙ্গে সদাচার তাদের দোষচর্চা পরিহার।
একভদ্রলোক তার ছেলেকে নিয়ে এলেন। চোখের পানিতে চেহারা ভাসিয়ে বললেন, কোনোভাবেই ছেলেটাকে মানুষ করা যাচ্ছে না। আজ থেকে বিশবছর আগের ঘটনা। এখনো ভদ্রলোকের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। ছেলেটার কিন্তু ইলম আর নছীব হয়নি। কথাপ্রসঙ্গে জানা গেলো, তিনি ঢাকা শহরের প্রসদ্ধি এক মসজিদের সভাপতি, খতিবও দেশবিখ্যাত আলিম। তাকে মসজিদ থেকে সরানোর আন্দোলন হলো এবং ভয়াবহ আন্দোলন। সভাপতি ছিলেন আন্দোলনের নেতৃত্বে। ঐ খতিব আমার পছন্দের মানুষ নন, বরং…। কিন্তু আমি বললাম, আপনি তো আপনার ছেলের সর্বনাশ করে বসে আছেন! ঐ আলিম দোষী, কি নির্দোষ তা আমি জানতে চাই না। আমি শুধু বলতে চাই, আপনি একজন আলিমকে বে-আবরু করেছেন। আপনার ছেলের জন্য এটা সর্বনাশের বিষয়।
যারা মাদরাসার প্রশাসনে আছে, কমিটিতে আছে, তাদের আমি সবসময় বলি, বহু ঘটনা আছে আমার জীবনে, আমি বলি, নিজের ছেলেকে ঐ মাদরাসায় তো দিবেনই না, বরং ছেলের ভালো চাইলে আপনি ঐ পদ থেকে ইসতিফা দিন। কারণ পদের মজবূরিতে আলিমদের সঙ্গে অসদাচরণ হয়েই যায়। আর এটা বড় খতরনাক। আপনার ছেলে বড়, না কমিটির পদ বড়?
একজন বলেছিলেন, আমি মাদানী নগর মাদরাসার ‘গভর্নিং বডি’র সদস্য।
আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, ছেলেকে আমার এখানে পড়াতে হলে ঐ পদ থেকে আপনাকে আলগ হতেই হবে। তিনি আলগ হয়েছিলেন,
আল্লাহর রহমতে তার ছেলে আলিম, মুফতি হয়েছে।
এখন তালিবে ইলমের করণীয় কী? তার বাবার যদি কোনো আলিমের সঙ্গে সমস্যাপূর্ণ আচরণ থাকে, সুযোগমতো তার কাছে যাওয়া এবং তার সঙ্গে আদবের আচরণ করা, যাতে তার মনে কোনো কষ্ট থাকলেও তা হালকা হয়ে যায়, আর তোমার প্রতি অন্তরে সুধারণা সৃষ্টি হয়।কিছু কারণ আছে যেগুলো থেকে বেঁচে থাকা আল্লাহ চাহে তো তালিবুল ইলমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেগুলো
থেকে তো অবশ্যই বেঁেচে থাকতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইলমের পথের সকল বাধা থেকে বেঁচে থাকার এবং ইলম হাছিলের যাবতীয় আসবাব ইখতিয়ার করার তাওফিক দান করুন, আমীন।

লেখকপরিচিতি
মাদানী নেসাব-প্রবর্তক

মাদরাসাতুল মাদীনাহ, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *