কুরআন হিফয করার আদর্শ পদ্ধতি

মঈনুল ইসলাম

আল্লাহ তাআলার প্রতি পরম মহব্বত ও গভীর আযমত নিয়ে কুরআনুল কারিম হিফয করার প্রতি উদ্যমী হোন। কুরআন হিফয করা সহজ ও তৃপ্তিদায়ক। যদি কতক পদ্ধতির অনুসরণ করা হয়।
এক. হিফয করার শুরুতে নিয়ত বিশুদ্ধ করা।
অশুদ্ধ নিয়তের কারণে কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম কুরআনুল কারিমের জনৈক কারীকে ডেকে চেহারার উপর ভর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। নবি সাল্ল¬াল্ল¬াহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম বলেন,ﻭﺭﺟﻞ ﺗﻌﻠﻢ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻭﻋﻠﻤﻪ ﻭﻗﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ، ﻓﺄﺗﻲ ﺑﻪ ﻓﻌﺮﻓﻪ ﻧﻌﻤﻪ ﻓﻌﺮﻓﻬﺎ، ﻗﺎﻝ : ﻓﻤﺎ ﻋﻤﻠﺖ ﻓﻴﻬﺎ؟، ﻗﺎﻝ : ﺗﻌﻠﻤﺖ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻭﻋﻠﻤﺘﻪ ﻭﻗﺮﺃﺕ ﻓﻴﻚ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ، ﻗﺎﻝ : ﻛﺬﺑﺖ، ﻭﻟﻜﻨﻚ ﺗﻌﻠﻤﺖ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻟﻴﻘﺎﻝ ﻋﺎﻟﻢ ﻭﻗﺮﺃﺕ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻟﻴﻘﺎﻝ ﻫﻮ ﻗﺎﺭﺉ، ﻓﻘﺪ ﻗﻴﻞ ﺛﻢ ﺃﻣﺮ ﺑﻪ ﻓﺴﺤﺐ ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻬﻪ ﺣﺘﻰ ﺃﻟﻘﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ “আর ঐ ব্যক্তি যে ইলম শিক্ষা করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তাকে জানিয়ে দেবেন তাঁর সকল নেয়ামত, ফলে সে তা জানবে। আল্লাহ বলবেন, ‘এ নেয়ামতসমূহের বিনিময়ে তুমি কি করেছ?’ সে বলবে, ‘আমি ইলম শিখেছি, অপরকে শিখিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি।’ তিনি বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ, তবে তুমি এ উদ্দেশ্যে ইলম শিখেছ, যেন লোকেরা তোমাকে আলেম বলে এবং এ উদ্দেশ্যে কুরআন পড়েছ, যেন লোকেরা তোমাকে কারী বলে। আর তা বলা হয়েছে।’ অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ জারি করা হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে অবশেষে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে”।
দুই. পার্থিব স্বার্থের জন্য কুরআনুল কারিম হিফয না করা।
কুরআনের ভালো হা. ও সুললিত কারীদের মাঝে এ জাতীয় বিচ্যুতি বেশি পরিলক্ষিত হয়। অতএব তারা কুরআনুল কারিম দ্বারা পার্থিব সম্পদ, সম্মান, সাথীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব, মানুষের প্রশংসা কুড়ানো ও নিজের দিকে মানুষদের আকৃষ্ট করার ইচ্ছা পরিহার করুন। আল্লাহ তা’আলা বলেন,ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﺮﻳﺪ ﺣﺮۡﺙ ﭐﻟۡﺄٓﺧﺮﺓ ﻧﺰﺩۡ ﻟﻪۥ ﻓﻲ ﺣﺮۡﺛﻪ ﻭﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﺮﻳﺪ ﺣﺮۡﺙ ﭐﻟﺪﻧۡﻴﺎ ﻧﺆۡﺗﻪ ﻣﻨۡﻬﺎ ﻭﻣﺎ ﻟﻪۥ ﻓﻲ ﭐﻟۡﺄٓﺧﺮﺓ ﻣﻦ ﻧﺼﻴﺐ ‘যে আখিরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি, আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে আমি তাকে তা থেকে কিছু দেই এবং আখিরাতে তার জন্য কোনো অংশ থাকবে না।’ নবি সাল্লাল্লা¬াহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,ﻣﻦ ﻃﻠﺐ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻟﻴﺠﺎﺭﻱ ﺑﻪ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ، ﺃﻭ ﻟﻴﻤﺎﺭﻱ ﺑﻪ ﺍﻟﺴﻔﻬﺎﺀ، ﺃﻭ ﻳﺼﺮﻑ ﺑﻪ ﻭﺟﻮﻩ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺇﻟﻴﻪ ﺃﺩﺧﻠﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻨﺎﺭ ‘যে ইলম অন্বেষণ করল, যেন তার দ্বারা সে আলেমদের সাথে তর্ক করতে সক্ষম হয়, অথবা
তার দ্বারা মূর্খদেরকে বোকা বানাতে সক্ষম হয়, অথবা তার দ্বারা মানুষদের চেহারাকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন।’
তিন. দোয়া, ইস্তেগফার ও সকাল-সন্ধ্যার যিকরসমূহ পড়া। গুনাহ হিফযের প্রতিবন্ধক, তাই গুনাহ থেকে তওবা করা, হিফযের জন্য দোয়া করা ও সকাল-সন্ধ্যার যিকরসমূহ রীতিমত পাঠ করা কুরআনুল কারিম হিফযের জন্য সহায়ক। সকাল-সন্ধ্যার অযিফা দ্বারা আল্লাহর ইচ্ছায় শয়তান থেকে সুরক্ষা মিলে ও সময় বরকতপূর্ণ হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযিয়াল¬াহু আনহু বলেন, নবি সা. মসজিদে প্রবেশ করার সময় বলতেন,
ﺃﻋﻮﺫ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﻭﺑﻮﺟﻬﻪ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ﻭﺳﻠﻄﺎﻧﻪ ﺍﻟﻘﺪﻳﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺍﻟﺮﺟﻴﻢ.
এ দোয়া পাঠকারী সম্পর্কে শয়তান বলে, সারা দিন সে আমার থেকে নিরাপদ হয়ে গেল।
চার. কুরআনুল কারিম হিফয করার উদ্যোগ নেওয়ার পরবর্তী কাজ হচ্ছে একজন অভিজ্ঞ, মুত্তাকি উস্তায ঠিক করা। হিফয করার পূর্বে নির্ধারিত অংশ উস্তাযকে শুনিয়ে নিন, হিফয শেষে আবার শুনান, তা হলে আপনার হিফয নির্ভুল হবে। উস্তায আলিম ও মুত্তাকী হলে কুরআনুল কারিমের হিফয ও তার আমল একসঙ্গে শেখা যায়। অর্থ, তাকওয়া ও আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় জানা যায়, যা হিফযের জন্য সহায়ক। যদি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীন হিফয করার সিদ্ধান্ত হয়, তা হলে সেখানে রীতিমত উপস্থিত থাকা ও রুটিন মোতাবেক হিফয করা।
পাঁচ. প্রতিদিন নির্ধারিত সময় হিফয করা।
হিফযের ব্রত গ্রহণকারী সর্বপ্রথম পুরো দিনের কাজ ও তার সময় বণ্টন করে নিন। অতঃপর হিফযের জন্য উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করুন ও তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করুন। হিফযের পরিমাণ কম বা বেশি যাই হোক প্রতিদিন নির্ধারিত সময় হিফয করুন। হিফযের জন্য তিনটি সময় বেশ উপযোগী
ক. ফজর সালাতের পূর্বাপর।
খ. আসর সালাতের পর ও
ঘ. মাগরিব সালাতের পর।
ক. ফজর সালাতের পূর্বাপর
এশার পর দ্রুত ঘুমিয়ে ফজরের পূর্বে উঠে আল্লাহর তাওফিক মোতাবেক কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ুন, অতঃপর জামাতের পূর্বাপর ত্রিশ থেকে চলি¬শ মিনিট হিফয করুন। ভোর বেলার হিফয দিনের কর্মস্থলে সময়-সুযোগ মত পাঠ করুন। এ সময় হিফযকারীকে অবশ্যই এশার পর রাতের প্রথম অংশ ঘুমাতে হবে। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠ ﺻﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﻜﺮﻩ ﺍﻟﻨﻮﻡ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻌﺸﺎﺀ ﻭﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺑﻌﺪﻫﺎ ‘রাসুল সা. এশার পূর্বে ঘুমানো ও তারপর কথা বলা অপছন্দ করতেন।’ পাবলিক প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত ও ব্যবসায়ীরা এ সময় হিফয করতে পারেন।
খ. আসর সালাতের পর: স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রদের জন্য এ সময়টা বেশ উপযোগী। আসর সালাত যারা প্রথম ওয়াক্তে পড়েন-তাদের জন্য এ সময়টা খুব দীর্ঘ; আর যারা পরবর্তী সময়ে পড়েন-তারা এতে কম সময় পান, অতএব তারা আসর সালাতের পূর্বে ত্রিশ-চলি¬শ মিনিট হিফয করুন।
গ. মাগরিব সালাতের পর: হাফেযি মাদরাসা কিংবা বড় মাদরাসার অধীন হিফয শাখার ছাত্ররা এ সময় হিফয করে। শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ও সরকারী চাকুরীজীবীরা সাধারণত এ সময় অবসর থাকেন, তারা এসময় হিফয করতে পারেন।
ছয়. কীভাবে হিফয করবেন?
হিফয শুরু করার পূর্বে নির্ধারিত অংশের তিলাওয়াত ওয়াকফসহ শিখে নিন। এক-লাইনকে দু’ভাগ করা বা দু’শ্বাসে পড়ার প্রয়োজন হলে, কিংবা বড় আয়াত ছোট-ছোট অংশে ভাগ করার প্রয়োজন হলে ওয়াকফ্ করার স্থান জেনে নিন, যেন অর্থ ঠিক থাকে ও পড়া শ্রুতিমধুর হয়। প্রথম আয়াত হিফয শেষে পরবর্তী আয়াত হিফয করুন এবং উভয় আয়াত একসাথে মিলিয়ে পড়ার পদ্ধতি জেনে নিন। এভাবে হিফয পরিপক্ব হয়। ধীরে ধীরে হিফয করুন, সম্ভব হলে নির্ধারিত অংশের অর্থ জেনে নিন, তা হলে হিফয দ্রুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। নির্ধারিত সময়ে যতটুকু হিফয করা সম্ভব হয় তাই হিফয করুন ও তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করুন। অতিরিক্ত চাপ ত্যাগ করুন এবং নতুন হিফযের তুলনায় পুরাতন হিফযের প্রতি অধিক মনোযোগ প্রদান করুন।
হিফয করা অংশ সুন্নত, নফল ও ফরয সালাতে তিলাওয়াত করুন। শেষ রাতের সালাতে তিলাওয়াত করা অধিক উত্তম, তখন আল্লাহ স্বীয় মর্যাদা মোতাবেক দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, আর বান্দাদের ডেকে বলেন,ﻣﻦ ﻳﺪﻋﻮﻧﻲ ﻓﺄﺳﺘﺠﻴﺐ ﻟﻪ ﻣﻦ ﻳﺴﺄﻟﻨﻲ ﻓﺄﻋﻄﻴﻪ ﻣﻦ ﻳﺴﺘﻐﻔﺮﻧﻲ ﻓﺄﻏﻔﺮ ﻟﻪ “কে আমাকে আহবান করবে আমি তার ডাকে সারা দিব, কে আমার নিকট প্রার্থনা করবে আমি তাকে প্রদান করব, কে আমার নিকট ইস্তেগফার করবে আমি তাকে ক্ষমা করব”। হিফয করা অংশ কখনো দেখে কখনো মুখস্থ পড়ুন, সর্বদা দেখে পড়া হিফযের জন্য ক্ষতিকর, অনুরূপ সর্বদা মুখস্থ পড়া হিফয ও শুদ্ধতার জন্য বিপজ্জনক। কুরআনুল কারিমের প্রতি অধিক দৃষ্টি হিফযকে দৃঢ় করে, মনোযোগে গভীরতা আনে ও আয়াতের সাথে আন্দোলিত হতে সাহায্য করে, তাই চিন্তা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে দেখে-দেখে কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করুন। আবার হিফযকে যাচাই ও নজরদারী করার জন্য মুখস্থ পড়ুন।
সাত. নেককার সাথী ও প্রতিযোগী গ্রহণ করা।
কুরআনুল কারিম হিফয করার জন্য নেককার প্রতিযোগী গ্রহণ করুন। হিফযের ক্ষেত্রে সহপাঠী কেউ থাকলে দু’জনের মাঝে সুন্দর প্রতিযোগিতা গড়ে উঠে, হিফযের সাহস ও স্পৃহা বৃদ্ধি পায় এবং সর্বদা মনে পড়ে যে, এ কল্যাণের ক্ষেত্রে আমার সাথী আমাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
আট. পিছনের পড়ার খবর নিন।
কুরআনুল কারিম খুব দ্রুত হিফয হয়, কিন্তু রীতিমত তিলাওয়াত না করলে দ্রুত ভুলিয়ে দেওয়া
হয়। ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু থেক বর্ণিত, নবি সাল্লাল্ল¬াহু ‘আলাইহি ওয়াসালল্লাম বলেন, ﺇﻧﻤﺎ ﻣﺜﻞ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﻤﺜﻞ ﺍﻹﺑﻞ ﺍﻟﻤﻌﻘﻠﺔ، ﺇﻥ ﻋﺎﻫﺪ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺃﻣﺴﻜﻬﺎ، ﻭﺇﻥ ﺃﻃﻠﻘﻬﺎ ﺫﻫﺒﺖ. ‘নিশ্চয় কুরআনের ধারকের উদাহরণ বাঁধা উটের উদাহরণের ন্যায়, যদি সে তাকে বেঁধে রাখে আটকে রাখবে, আর তাকে ছেড়ে দিলে সে চলে যাবে।’ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, মুসা বিন উকবাহ এই হাদিস শেষে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন,ﻭﺇﺫﺍ ﻗﺎﻡ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻘﺮﺃﻩ ﺑﺎﻟﻠﻴﻞ ﻭﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ﺫﻛﺮﻩ، ﻭﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﻘﻢ ﺑﻪ ﻧﺴﻴﻪ.‘কুরআনুল কারিমের ধারক যদি (কুরআন নিয়ে) কিয়াম করে, অতঃপর দিন-রাত তা তিলাওয়াত করে, তা হলে কুরআন স্মরণ রাখবে, আর যদি কুরআন নিয়ে কিয়াম না করে তা ভুলে যাবে।’
পিছনের হিফয দৃঢ় করে সামনে মুখস্থ করুন। প্রতিদিন হিফযের জন্য যে সময় নির্ধারিত থাকবে, অল্প হলেও তাতে পিছনের পড়ার রুটিন রাখুন। হিফযের পরিমাণ বেশি হলে কখনো নতুন হিফয বন্ধ করে পিছনের হিফয মজবুত করুন। এতে ঢিলেমি না করা, কারণ পিছনের পড়া মুখস্থ না থাকলে হিফযের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়। আবার এ ইচ্ছাও না করা যে, সবক শেষ করে পরবর্তীতে হিফয মজবুত করব, এ জাতীয় ইচ্ছা সাধারণত পূরণ হয় না।
নয়. কুরআনুল কারিম শিক্ষার্থীর কতিপয় গুণাগুণ।
পোশাক, শরীর ও মুখমণ্ডল পরিষ্কার রাখা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, উস্তায ও সহপাঠীদের সাথে বিনয়ী ও সহনশীল হওয়া, তাদের সাথে আদব রক্ষা করা। উস্তাযের সামনে উঁচু সরে কথা না বলা, যদিও তার বয়স কম হয়। অধিক হাসাহাসি ও খেলা-ধুলা ত্যাগ করা, তবে হাসি-খুশি থাকা, যেন তার প্রতি উস্তাযের মহব্বত সৃষ্টি হয়। উস্তায থেকে কখনো কঠোর আচরণ প্রকাশ পেলে তাকে পরিহার না করা, আদব রক্ষা করা ও পড়া-শুনার প্রতি আগ্রহী থাকা। কুরআন পবিত্র বীজের ন্যায়, যা উর্বর ও পরিচ্ছন্ন জমি ব্যতীত গজায় না, তাই কুরআনুল কারিম হিফযের জন্য হিংসা ও কপটতা মুক্ত পবিত্র অন্তর থাকা চাই। হিংসা করার অর্থ আল্লাহর তাকদীরে আপত্তি করা। আবার কারো হিংসার পাত্র হতে নেই, কারণ চোখেরও শূল আছে। অতএব বদ-নজর থেকে সুরক্ষা ও ইখলাস ধরে রাখার স্বার্থে আপনার হিফয গোপন রাখুন। সৎ ও মহৎ চরিত্রগুণে গুণান্বিত হোন, অহংকার ও অহমিকা থেকে মুক্ত থাকুন। নবি সাল্লাল্ল¬াহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম বলেন, ﻭﻣﺎ ﺗﻮﺍﺿﻊ ﺃﺣﺪ ﻟﻠﻪ ﺇﻟﺎ ﺭﻓﻌﻪ ﺍﻟﻠﻪ. ‘আল্লাহর জন্য কেউ বিনয়ী হলে অবশ্যই আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।’
দশ. নির্দিষ্ট ছাপার কুরআন পড়া।
হিফযের শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্দিষ্ট ছাপার কুরআন তথা হাফেযি কুরআন পড়া জরুরি। কারণ স্মৃতি শক্তির ন্যায় চোখও হিফয করে, তাই হাফেযি কুরআন পড়লে সূরা ও আয়াতের অবস্থান মনে থাকে, প্রয়োজনের সময় নির্দিষ্ট স্থান থেকে নির্দিষ্ট আয়াত খুঁজে নেওয়া সহজ হয়।

 লেখকপরিচিতি,
শিক্ষক, জামেয়া ইসলাময়া ফরিদাবাদ সিলেট

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *